শনিবার, ২ জুন, ২০১২

চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন সামরিক নৌঘাঁটি নির্মাণের চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে

ব দ রু দ্দী ন উ ম র
অবশেষে থলের বিড়াল লাফ দিয়ে বাইরে বের হল। যা এতদিন অনেকেরই জানা ছিল এবং সরকার সাধ্যমতো সতর্কতার সঙ্গে গোপন রেখেছিল, এখন ভারতীয়রাই তা ফাঁস করল। মুম্বাই থেকে প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণ ‘টাইমস নাউ’-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক উদ্দেশ্যে তাদের সপ্তম নৌবহর চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে রাখার ই”ছা প্রকাশ করেছে (উধরষু ঝঃধৎ, যুগান্তর, ইত্তেফাক ২.৬.২০১২)। এভাবে ই”ছা প্রকাশের অর্থ যে ‘ই”ছা’ পূরণের ব্যব¯’া আগেভাগেই সমাপ্ত করা, এ কথা কে না বোঝে? যে বিষয়ে যেভাবে কথাবার্তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল, তাতেই হিলারি ক্লিনটন তার সিলমোহর মেরে গেছেন।
ফিলিপাইনের সুবিক বে-এর নৌঘাঁটি উঠিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যত্র নৌঘাঁটির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যা”িছল। এ উদ্দেশ্যে তারা চট্টগ্রাম অথবা বাংলাদেশের অন্য কোন জায়গায় নৌঘাঁটি করার ব্যাপারে একের পর এক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে আসছিল। এখন এই প্রয়োজন তাদের আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ ভারত মহাসাগরে দিয়াগো গার্সিয়ায় তারা ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি যে নৌঘাঁটি তৈরি করেছিল সেটা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বৃদ্ধি ও বরফ গলতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এখন আর কোন অনিশ্চয়তা নেই। এই পরি¯ি’তিতে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নতুন নৌঘাঁটির প্রয়োজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য হয়েছে। কিš‘ এই নৌঘাঁটির জায়গা ভারত, শ্রীলংকা থেকে নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় কোন জায়গাতেই আর পাওয়া যা”েছ না। এদিক দিয়ে বাংলাদেশের ওপর তাদের নজর পড়েছে অনেক আগেই।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন বড় আকারে তার নৌবাহিনী মোতায়েন করায় জাপান থেকে নিয়ে আরব সাগর পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপ¯ি’তি জোরদার করা প্রয়োজন। মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর থেকে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নৌশক্তি এবং এ নৌশক্তির জোরেই এ অঞ্চলে তারা আধিপত্য বজায় রেখেছে। এর থেকেই পরিষ্কার যে, তারা এ অঞ্চলে ¯’ায়ী নৌঘাঁটি নির্মাণের জন্য এখন বদ্ধপরিকর এবং মরিয়া।
এদিক দিয়ে বাংলাদেশের মতো দুর্বল এবং ই”ছুক দেশ আর কে আছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ই”ছা অনেক আগেই পূরণ হতো যদি না এ ক্ষেত্রে তাদের ভারতের বিরোধিতার বিষয়টি হিসাব না করতে হতো। কারণ বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌঘাঁটি নির্মাণ করে জেঁকে বসলে বাংলাদেশের নির্ভরতা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বৃদ্ধি পাবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ হিসাব ভারতের আছে। অন্যান্য বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক কিছুদিন থেকে কিছুটা তিক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের কোলে চড়ে বসে থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার এমন এক ‘বন্ধু’ যারা বাংলাদেশে অন্যভাবে প্রভুত্ব করে। কাজেই বাংলাদেশে কার আধিপত্য অধিকতর শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, এ নিয়ে এখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশ তীব্র হ”েছ। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নৌঘাঁটি নির্মাণ করতে দেয় এবং সপ্তম নৌবহরকে এখানে নোঙর করে রাখে, তাহলে সামরিকভাবে বাংলাদেশের ওপর যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কবজা আরও শক্ত হবে এতে সন্দেহ নেই। এটা ঘটলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক অবশ্যই খারাপ হবে। বাংলাদেশ নিজের কোন স্বার্থে এটা ঘটতে দিতে পারে? কোন লাভের আশায় বাংলাদেশ এ অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে মার্কিনের কলকাঠি হিসেবে নিজেকে ব্যবহƒত হতে দিতে পারে? প্রথমত উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরি¯ি’তির ওপর এর প্রভাব পড়বে খুব বিপজ্জনকভাবে। বাংলাদেশে কোন বড় আকারে গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান হলে সে ক্ষেত্রে সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ চট্টগ্রামে অন্তত নৌবাহিনী থাকলে যত সুবিধা হবে অন্য অব¯’ায় তত সুবিধা হবে না। এটা শুধু বাংলাদেশের প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক শক্তির জন্যই নয়, ভারতের জন্যও এক অতি উদ্বেগজনক ব্যাপার।
সপ্তম নৌবহরকে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করতে দেয়া বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এক ক্ষমার অযোগ্য বেঈমানি। অন্য কথা বাদ দিয়ে এটা মোটেই ভুলে যাওয়ার ব্যাপার নয় যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে পাকিস্তানি শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই সপ্তম নৌবহর নিয়ে আসার হুমকি দিয়েছিল এবং প্র¯‘তি গ্রহণ করেছিল। এ নিয়ে তখন বাংলাদেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে তুমুল বিরোধিতা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিš‘ সেটা সম্ভব না হলেও যে নৌবহরকে বাংলার স্বাধীনতার বির“দ্ধে ব্যবহারের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, সেই নৌবহরকে চট্টগ্রামে নোঙর করার অনুমতি দেয়া যদি দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের প্রতি বেঈমানি না হয়, তাহলে বেঈমানি আর কাকে বলে? বর্তমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং তাদের তথাকথিত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন এই চরম বেঈমানির সব প্র¯‘তি পাকাপোক্ত করেছেন। শেখ হাসিনার বেঈমানির এটাই প্রথম দৃষ্টান্ত নয়। চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির জন্য তিনি প্যারিসে কিসিঞ্জারের হাত থেকে ‘শান্তি পুরস্কার’ পর্যন্ত নিতে অসুবিধা বোধ করেননি! পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল তার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটা প্রায় প্রতিদিন শান্তিচুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী সš‘ লারমার নিয়মিত বিলাপ এবং ক্রন্দন থেকেই বোঝা যায়। সš‘ লারমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির হাতে তামাক খেয়ে শেখ হাসিনা কিসিঞ্জারের হাত থেকে শান্তি পুরস্কার নিলেও যে শান্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সেখানকার অশান্ত পরি¯ি’তিই তার ভুয়া চরিত্র প্রতিদিনই প্রমাণ করছে।
এই কিসিঞ্জার কে? প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পক্ষে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বির“দ্ধে যে চরম বিরোধী অব¯’ান গ্রহণ করে অনেক শত্র“তা করেছিলেন, সেটা কারও অজানা নয়। একটি ভুয়া শান্তিচুক্তি করে শেখ হাসিনা কিসিঞ্জারের মতো একজন ঘৃণ্য সাম্রাজ্যবাদীর হাত থেকে শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজেকে কলঙ্কিত করেছিলেন এবং বাংলাদেশের ইজ্জত আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষুণœ ও খর্ব করেছিলেন। এর জন্য তাকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বলার দাবি অবশ্যই করা যেতে পারে। কিš‘ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরকে চট্টগ্রামে নোঙর এবং চট্টগ্রামে মার্কিন নৌঘাঁটি নির্মাণ করতে দিয়ে দেশকে সর্বনাশের দোরগোড়ায় দাঁড় করানোর যে চক্রান্ত শেখ হাসিনা করছেন তার জন্য তাকে ক্ষমা করার সব পথ তিনি নিজেই বন্ধ করেছেন। 
বাংলাদেশে সপ্তম নৌবহরকে নোঙর করতে দেয়া এবং চট্টগ্রামে মার্কিন নৌঘাঁটি ¯’াপনের অর্থ ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশ থেকে হাত গুটিয়ে আসতে বাধ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ এলাকা বাংলাদেশে সম্প্রসারিত করারই এক চক্রান্ত। এই চক্রান্ত আমাদের জন্য এক বিপজ্জনক ব্যাপার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বপরিসরে এখন চীনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে। চীন প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যেভাবে শক্তিশালী হয়েছে ও নিজের শক্তি আরও বৃদ্ধি করছে তার মোকাবেলা করা বিশ্বশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন। কিš‘ তাদের এ প্রয়োজনের সঙ্গে বাংলাদেশ কেন জড়িত হবে? আমরা জানি, যেসব দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা ও তৎপরতার সঙ্গে জড়িত হয়েছে বা তাদের খপ্পরে পড়েছে সেসব দেশ তছনছ হয়ে গেছে। সেসব দেশের জনগণের জন্য অসীম দুর্দশা নেমে এসেছে। বাংলাদেশে এমনিতেই জনগণের দুর্দশার শেষ নেই। তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এ দেশে আরও বড় রকম সর্বনাশের ব্যব¯’া করা থেকে দেশ ও জনগণের প্রতি বড় বেঈমানি আর কী হতে পারে? আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশ ও জনগণের সঙ্গে এই বেঈমানি করে সারা বাংলাদেশকে তার ‘সদ্য বিজিত’ বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। তার এ চক্রান্ত দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। এই মার্কিন ঘাঁটি বাংলাদেশে আমরা কিছুতেই তৈরি হতে দিতে পারি না। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের এই বেঈমানি প্রতিহত করার থেকে এ মুহূর্তে জনগণের সামনে অন্য কোন গুর“ত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি আর নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকেও উপযুক্ত গুর“ত্বসহকারে ও জর“রি ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে।
২-৬-২০১২

বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১২

বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারি হামলা


ব দ রু দ্দী ন উ ম র
আজ থেকে ঠিক দু’বছর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তথাকথিত মহাজোট সরকারের পুলিশ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছিল এবং পত্রিকার প্রেসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেখিয়ে দিয়েছে জনগণের ওপর নির্যাতন, অপহরণ, গুম খুন, সংবাদপত্রের ওপর হামলায় তারা কতখানি পারদর্শী। কাজেই এসব ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত দক্ষতা অন্য যে কোনো দলের থেকেই বেশি। যদিও শাসক শ্রেণীর অন্য দলও ক্ষমতায় থাকার সময় একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চেষ্টার ত্রুটি রাখে না।
১৯৭৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিব বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে জনগণের ওপর নির্যাতনের যে স্টিমরোলার চালিয়েছিলেন, সেটা তার শাসনকে কলঙ্কিত করেছিল এবং সেটাই তার উত্খাতের প্রধান কারণ ছিল। শেখ মুজিব সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ যেভাবে করেছিলেন তার তুলনা একমাত্র প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ১৯৭১ সালের নয় মাসের শাসন ছাড়া পাকিস্তান আমলে এবং আজ পর্যন্ত যত সরকার এসেছে তার কোনোটির আমলেই পাওয়া যাবে না। স্বাধীনতার লড়াইয়ের পর জনগণকে এভাবে যে ‘স্বাধীনতা’ শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দান করেছিল, ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে সেটা মুছে ফেলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। দুষ্ট প্রকৃতির মতলববাজ লোক ছাড়া এ চিন্তা করাও কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়ার সামরিক বাহিনী আমাদের জনগণের ওপর ব্যাপক ও নিষ্ঠুর আক্রমণ পরিচালনা শুরু করার সময় শেখ মুজিব নিজে বাড়িতে বসে থেকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার কোনো ক্ষমতা তখন তার ছিল না। রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই আক্রমণ প্রতিরোধের কোনো লাইনই আওয়ামী লীগের ছিল না। তারা শেখ মুজিবকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানে চালান দিয়েছিল। দেশের লাখ লাখ মানুষ জীবন দান থেকে নিয়ে হাজার রকম নির্যাতনের শিকার হতে থাকার সময় তার নিরাপদ জীবনের দায়িত্ব নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। শুধু তাই নয়, ঢাকায় তার স্ত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ পুত্র-কন্যাদের ভরণপোষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বও নিয়েছিল ইয়াহিয়ার সামরিক সরকার। অন্যদিকে ২৫ মার্চের পর স্বাধীনতার আওয়াজ তুলে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতানেত্রীরা দেশের জনগণকে পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে ফেলে দেশ ছেড়ে প্রাণভয়ে যথাসাধ্য দ্রুততার সঙ্গে ভারতে পলায়ন করেছিলেন। ওই কাপুরুষতা ও দেশের জনগণের প্রতি কলঙ্কজনক আচরণের জন্য তাদের যে ব্যাখ্যা থাকা দরকার ছিল, সে ব্যাখ্যা তারা আজ পর্যন্ত কোনোদিন দেয়নি। দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে লড়াই না করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব নিজেরা ভারতে নিরাপদ অবস্থানে থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন করার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন ভারতীয় সরকারের কাছে! ভারত সরকার দক্ষতার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করেছিল!! এই যাদের অবস্থা ছিল, তারা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে দেশ স্বাধীন করতে চেয়েছিল, তার পরিকল্পনা করেছিল ও তার জন্য ডাক দিয়েছিল—এর থেকে হাস্যকর কথা আর কী হতে পারে? কিন্তু যা হাস্যকর তারই পতাকা আজ বাংলাদেশে উড়ছে। অন্যদিকে দেশের হাজার হাজার তরুণ ও যুবক দেশ স্বাধীন করার জন্য এগিয়ে এসেছিল। তারা আওয়ামী লীগের বা তার কোনো অঙ্গ সংগঠনের সদস্য ছিল না। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই তারা বাংলাদেশের ভেতরে এবং ভারত থেকে বাংলাদেশের মধ্যে এসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেছিল। অগণিত সংখ্যক এই যোদ্ধা অকাতরে নিজেদের জীবন দিয়েছিলেন। কিন্তু যারা এভাবে জীবন দিয়েছিলেন তারা কোনো স্বীকৃতি পাননি, তাদের পরিবার এবং যারা এই যুদ্ধে নানাভাবে শরিক ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন তারা ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের পর কিছুই পাননি। যারা কলকাতায় বসে ছিল এবং যারা দেরাদুনে ভারতীয় জেনারেল ওভান্দের তদারকিতে ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে ট্রেনিং লাভ করেছিল তারাই দেশে ফিরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের ঢেঁড়ি পিটিয়ে মাখন-রুটির ব্যবস্থা করেছিল। লুটপাট করে দেশকে ছারখার করেছিল। শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের হেফাজত থেকে ঢাকায় এসে স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়েছিলেন। কিন্তু এমনভাবে তারা স্বাধীন বাংলাদেশে নিজেদের শাসন পরিচালনা করেছিলেন যাতে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় প্রায় সমস্ত পরিবারসহ শেখ মুজিব নিজে নিষ্ঠুরভাবে নিহত হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারই শুধু নয়, সংগঠনও এমনভাবে বিলুপ্ত হয়েছিল যাতে মুজিব হত্যা ও নিজেদের সরকার উত্খাতের বিরুদ্ধে সামান্যতম কোনো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধই তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। চরম প্রতিক্রিয়াশীল একটি সামরিক চক্র মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সহযোগিতায় শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগকে এভাবে হত্যা ও নিশ্চিহ্ন করলেও এর মূল দায়িত্ব সেই সামরিক চক্রের ঘাড়ে চড়িয়ে দেয়া একেবারেই সঠিক হচ্ছে না। সেটা কোনো যোগ্য ঐতিহাসিকেরই কাজ নয়। এজন্য আওয়ামী লীগকে নিজের দায় অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।
কিন্তু সে দায় স্বীকার করার মতো নৈতিক ও রাজনৈতিক সততা তাদের না থাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকে তারা ১৯৭২ সাল থেকেই বিকৃত করতে থাকে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তাদের এই ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতকরণের যত রকম চেষ্টা হয়েছে, তার পথিকৃতের গৌরব আওয়ামী লীগেরই প্রাপ্য।
বাংলাদেশে আজ সমগ্র জনগণ ও সেই সঙ্গে সংবাদপত্র ও বৈদ্যুতিক সংবাদ মাধ্যমের ওপর যেভাবে সরকারি আক্রমণ চলছে, একে এর ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত করার উদ্দেশ্যে ওপরের এত সব কথা বলার প্রয়োজন হলো। শুধু আওয়ামী লীগই এসব করছে, তার জন্যই এর প্রয়োজন নয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৯৭৫ সালের পর প্রত্যেকটি সরকারই পরিস্থিতি অনুযায়ী একই কাজ করেছে। এ বিষয়টি ভুলে গিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার কোনো গণতান্ত্রিক তাত্পর্য থাকবে না। কিন্তু এ সত্ত্বেও যা বলা দরকার তা হলো, ১৯৭২-৭৫ সালের আওয়ামী বাকশালী শাসন আমলে জনগণের ওপর নির্যাতনের যে ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল, সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই অন্যান্য সরকার অভিন্ন শাসক শ্রেণীর পক্ষে একইভাবে একই কাজ করেছে। কাজেই সংবাদপত্র এবং বৈদ্যুতিক সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমণ শুধু আওয়ামী লীগেরই কাজ নয়। বিএনপি, জাতীয় পার্টি কেউই এদিক দিয়ে নিজেদের সরকারের আমলে হাত গুটিয়ে বসে ছিল না।
দুই বছর আগে দৈনিক আমার দেশ-এর ওপর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আক্রমণ প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলা দরকার যে, এই পত্রিকাটি সরকারবিরোধী রিপোর্ট ও নানা তথ্য প্রকাশ করার জন্য যেভাবে পুলিশ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এখন সে আক্রমণ আরও ব্যাপক আকারে দেশজুড়ে চলছে। এমনকি যে রিপোর্ট ও তথ্য প্রকাশিত হয়নি কিন্তু প্রকাশের মুখে ছিল, তা বন্ধ করার জন্য সাংবাদিক হত্যাও এখন শুরু হয়েছে! সেই হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রকৃত তদন্ত যে আজ পর্যন্ত হচ্ছে না, এর কারণ বোঝার অসুবিধা কোনো সত্ লোকের আছে?
বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ এখন প্রায় প্রতিদিন এমনভাবে হচ্ছে যাতে একে এক নিয়মিত ব্যাপার হিসেবে গণ্য করা চলে। মারপিট, অপহরণ, গুম-খুন সবকিছুই যেমন সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধীদের ক্ষেত্রে হচ্ছে, তেমনি তা হচ্ছে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, এই আক্রমণ শুধু সরকারবিরোধী সাংবাদিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নানা ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের জন্য সরকার সমর্থক পত্রিকার সাংবাদিকরাও পুলিশের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
দৈনিক আমার দেশ সরকারের আক্রমণের বিশেষ লক্ষ্যস্থল এ কারণে যে, এই পত্রিকাটি যথেষ্ট তথ্য সহকারে সরকারের নানা দুষ্কৃতির সংবাদ জনগণকে সরবরাহ করে থাকে। এই পত্রিকাটির বিক্রি এবং প্রচারও যথেষ্ট। কাজেই এর বিরুদ্ধে শুধু পুলিশি আক্রমণ নয়, পরোক্ষভাবে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে একে আর্থিকভাবে পঙ্গু করার ব্যবস্থাও সরকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি বিজ্ঞাপনই নয়, বেসরকারি বিজ্ঞাপন থেকেও এরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কারণ সরকারের এই বিজ্ঞাপননীতি লঙ্ঘন করে বিজ্ঞাপন দিলে বিজ্ঞাপনদাতারা সরকারি রোষ এবং হয়রানির শিকার হওয়ার ভয় করেন। ভয় করারই কথা। সবশেষে এখানে বলা দরকার যে শুধু আমার দেশ পত্রিকাটিই নয়, দেশজুড়ে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এখন যে সরকারি আক্রমণ প্রায় প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চলছে, তার বিরুদ্ধে জোরদার সংগ্রাম সাংবাদিকরা করছেন না। তারা যেভাবে সংগ্রাম করছেন সেটা দাঁড়াচ্ছে সংগ্রাম সংগ্রাম খেলার মতো। এজন্য তারা মানববন্ধন, অনশন, ঘরোয়া সভা, দলবাজি ইত্যাদি করলেও এখনও পর্যন্ত তাদের ঢাকা এবং অন্যত্র কোনো বড় সমাবেশ ও মিছিল করতে দেখা যায়নি। মিছিল ছাড়া কোনো আন্দোলন শক্তিশালী হওয়ার নয়। মিছিল হলো রাস্তার লড়াইয়ের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। অন্যদের কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা মার খাচ্ছেন। কিন্তু নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমে যখন তারা পুলিশের মার খাবেন, তখনই বোঝা যাবে যে সংবাদপত্র কর্মীরা নিজেদের বিরুদ্ধে আক্রমণ প্রতিরোধ ও নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম সঠিক পথে ও যথাযথভাবে শুরু করেছেন।
৩০-০৫-২০১২

সোমবার, ২৮ মে, ২০১২

সিরিয়ায় ন্যাটো সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত এগিয়ে চলেছে


বদরুদ্দীন উমর
সিরিয়ায় লিবিয়ার মতো তেল নেই। কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক দিক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার গুরুত্ব অনেক। ইসরায়েল সিরিয়ার ঘোরতর শত্রু। কাজেই সিরিয়ার বর্তমান সরকার উচ্ছেদ ইসরায়েলের হাত শক্ত করার জন্য প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, লেবাননের সঙ্গে সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সিরিয়ার বর্তমান সরকার ফেলে দিতে পারলে এরপর তারা সহজেই লেবাননের ওপর সামরিকভাবে চড়াও হতে পারে। তা ছাড়া ইরান তো অবশ্যই আছে। সিরিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সিরিয়ার সরকার উৎখাত হলে ইরান খুব ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হবে। এসব দিক দিয়ে সিরিয়ার বাশার আল আসাদের সরকার উৎখাত মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয়

ইউরো-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের এবং সৌদি আরব ও কাতারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত সরকারবিরোধী সন্ত্রাসীদের দ্বারা মধ্য সিরিয়ার হুলা শহরে ২৫ মে ৯০ জন নিহত হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশই হলো শিশু। এ চক্রান্তমূলক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তার দায়দায়িত্ব বাশার আল আসাদের সরকারের ওপর চাপিয়ে তাদের দ্বারা গঠিত তথাকথিত সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের নেতারা এখন জাতিসংঘের সামরিক হামলার মাধ্যমে সিরিয়ার সরকার উচ্ছেদের আওয়াজ তুলেছে। এ হত্যাকাণ্ডকে সিএনএন, বিবিসি এবং কাতারের আল জাজিরা টেলিভিশন এবং সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত পত্রপত্রিকা সিরিয়া সরকারের ক্রাইম হিসেবে অভিহিত করে প্রচার চালাচ্ছে। তারা অনেক লাশের ছবি টেলিভিশনে দেখাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা লিবিয়ায় একই কায়দায় যে কাজ করেছিল সিরিয়ায়ও তাই করছে। ইয়েমেনি সরকারের গুলিতে নিহত লোকদের ছবি টেলিভিশনে দেখিয়ে সেটা গাদ্দাফির সেনাবাহিনীর কাজ বলে তারা প্রচার করেছিল। এ ধরনের ধাপ্পাবাজি করতে তারা অভ্যস্ত এবং এর যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও তাদের আছে। শুক্রবারের হত্যাকাণ্ড সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর কাজ বলে তারা প্রচার করলেও সিরিয়া সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সরকারবিরোধীদের কাজ। (উধরষু ঝঃধৎ ২৮.৫.২০১২) নিজেরা এ কাজ করে সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং এর ছুতো করে তারা জাতিসংঘকে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটা করেছে।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বসে নেই। তারা অবশ্যই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণ করছে। তাতে বেসামরিক নিরীহ লোকজনও মারা যাচ্ছে; কিন্তু এটা অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে যে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে এ কাজে একভাবে বাধ্য করা হচ্ছে। কারণ সাম্রাজ্যবাদের সাহায্যপুষ্ট ও তাদের দ্বারা প্ররোচিত সশস্ত্র বাহিনী সরকারি বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা এবং সরকার সমর্থক জনগণের ওপরও সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালনা করছে। এর ফলে বেসামরিক লোকজনের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বহু লোকও হতাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো সরকারই যে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য।
লিবিয়াতেও ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র এভাবেই বেনগাজিতে এক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছিল তাদের অর্থ, অস্ত্র ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সহায়তার অর্থ ছিল মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে এক ব্যাপক রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো। সে কাজে তারা পরিপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছিল, কারণ বিশ্বজোড়া বৈদ্যুতিন ও মুদ্রিত প্রচারমাধ্যমই তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও সেই ভাড়াটে বিদ্রোহী বাহিনীকে দিয়ে গাদ্দাফিকে পরাস্ত করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। এটা উপলব্ধি করেই তারা লিবিয়ায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ঘড় ভষু তড়হব দাবি করে নিরাপত্তা পরিষদে। প্রস্তাবের সীমা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তারা লিবিয়ায় ন্যাটো বাহিনীকে দিয়ে বোমাবর্ষণ করিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা গাদ্দাফির বিশাল বাহিনী তো ধ্বংস করেছিলই, তার ওপর তাদের স্থলবাহিনীকে প্রায় নির্মূল করেছিল।
কিন্তু তাদের এ আক্রমণের সব থেকে অপরাধমূলক দিক ছিল হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক লোকজনের ওপর বোমাবর্ষণ করে তাদের হত্যা করা। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগ তারা করেছিল তার বহুগুণ হত্যা ন্যাটোর বিমান আক্রমণের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদীরা করেছিল; কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের প্রচারমাধ্যমের শক্তি এত বেশি যে তারা সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফিকে হত্যা এবং লিবিয়ায় তার শাসন উচ্ছেদ করে, লিবিয়াকে এমন আইনের পদানত করে, তাদের তেলসম্পদ ব্যাপকভাবে লুণ্ঠন করছে।
এ প্রসঙ্গে অবশ্যই বলা দরকার যে, লিবিয়ার এই অবস্থা হতো না যদি রাশিয়া ও চীন নিরাপত্তা পরিষদে নো ফ্লাই জোনের বিরুদ্ধে ভেটো দিত। কিন্তু সেটা না দিয়ে তারা ন্যাটোভুক্ত সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছিল। এভাবে হাত মেলানোর ফলে শেষ পর্যন্ত তারা কিছুই পায়নি। তাদের হাতে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র তামাক খেয়েছে। কোন বুদ্ধি ও বিবেচনার বশবর্তী হয়ে তারা এ কাজ করেছিল তা বোঝা মুশকিল। কোন অভিজ্ঞতার কথাই বা তারা চিন্তা করেছিল, সেটাও জানা নেই। কিন্তু লিবিয়ায় তাদের এ অভিজ্ঞতার পর তারা এখন সাবধান হয়ে জাতিসংঘ কর্তৃক লিবিয়ার মতো সিরিয়ায় নো ফ্লাই জোন চালু করার বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছে। তাদের এই ভেটো ন্যাটোভুক্ত সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়েছে। কাজেই এখন সরাসরি সিরিয়া আক্রমণ করতে না পেরে তারা তাদের দ্বারা সংগঠিত সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে সিরিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে নিযুক্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু সাফল্য এসেছে, কিন্তু এ কাজ করে সিরিয়া সরকারকে যেভাবে তারা ফেলে দেওয়ার চিন্তা করেছিল সেটা হয়নি।
সিরিয়ায় লিবিয়ার মতো তেল নেই। কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক দিক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার গুরুত্ব অনেক। ইসরায়েল সিরিয়ার ঘোরতর শত্রু। কাজেই সিরিয়ার বর্তমান সরকার উচ্ছেদ ইসরায়েলের হাত শক্ত করার জন্য প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, লেবাননের সঙ্গে সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সিরিয়ার বর্তমান সরকার ফেলে দিতে পারলে এরপর তারা সহজেই লেবাননের ওপর সামরিকভাবে চড়াও হতে পারে। তা ছাড়া ইরান তো অবশ্যই আছে। সিরিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সিরিয়ার সরকার উৎখাত হলে ইরান খুব ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হবে। এসব দিক দিয়ে সিরিয়ার বাশার আল আসাদের সরকার উৎখাত মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয়।
আরব লীগ নামে যে সংগঠনটি আছে এটি সব সময়ই ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসি সাম্রাজ্যবাদীদের অনুগত হিসেবেই কাজ করেছে এবং এখনও করছে। এটাই একটা বড় কারণ, যে জন্য আরব দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে সক্ষম হয়নি। শুধু তাই নয়, সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রটি ইসরায়েলবিরোধী অনেক কথাবার্তা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেই চলে। এসব দিক বিবেচনা করলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে বেশ কঠিনই বলতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ন্যাটোভুক্ত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো ও তাদের পদানত আরব লীগ এখন সিরিয়ায় গণহত্যার কথা বলে ব্যাপকভাবে এসব প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় লাখ লাখ নিরীহ বেসামরিক লোক, নারী-শিশু-বৃদ্ধ হত্যা করলেও তার বিরুদ্ধে বিশ্বজোড়া কোনো বড় আকারের প্রতিবাদ ও বিরোধিতা দেখা যায় না। এর কারণ বর্তমান বিশ্বে জনমত খুব চাতুর্যের সঙ্গে প্রচারমাধ্যমের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এই প্রচারমাধ্যম হলো সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও তাদের মক্কেল দেশগুলোর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
২৮.৫.২০১২

শনিবার, ২৬ মে, ২০১২

আওয়ামী লীগের আকাশে কালো মেঘ


ব দ র“ দ্দী ন উ ম র
২২৯ জন সংসদ সদস্য নিয়ে আওয়ামী লীগ এখন শনির দশাপ্রাপ্ত হয়েছে। কোন দিকেই এখন তার আশা-ভরসার ক‚লকিনারা নেই। ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ইত্যাদির মতো তাদের তথাকথিত মহাজোটের শরিকদের পা-চাটা কথাবার্তা যে তাদের কোন কাজেই আসছে না ও আসবে না, এটা কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে প্রকৃতপ¶ে উৎখাত হয়ে যাওয়া এই দলগুলোর একমাত্র ভরসা এখন আওয়ামী লীগ, যার নিজেরই এখন শুর“ হয়েছে অš—র্জলি যাত্রা। যার নিদান হাঁকা শুর“ হয়েছে দেশে-বিদেশে সর্বত্র, এমনকি তার প্রধান র¶ক সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বারা।
ভারতই এখন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সব থেকে ঘনিষ্ঠ সাম্রাজ্যবাদী পৃষ্ঠপোষক এবং পেয়ারের রাষ্ট্র। কিন্তু যে দেশের প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় অল্প সময়ের জন্য ঢাকা সফরে এসে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সা¶াৎ করে শুধু তাকে দিলি­তে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে যাননি, তিনি বলেছেন, অনেকের ধারণা, ভারত বাংলাদেশে একটি বিশেষ দলের প্রতি বেশি প¶পাতিত্ব করে। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। ভারত বাংলাদেশ ও তার জনগণের বন্ধু এবং বাংলাদেশের জনগণ যাকেই নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক থাকবে। কোন বিশেষ দলের প্রতি ভারতের কোন প¶পাতিত্ব নেই!
এ কথা বলা যত সহজ, বলে পার পাওয়া তত সহজ নয়। কারণ ভারত যে আওয়ামী লীগের মুর“ব্বি এবং তাদের প্রতিই যে তাদের প¶পাতিত্ব এটা কোন গোপন ব্যাপার নয়। কিন্তু তা সত্তে¡ও কেন এখন ভারতের অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে নিজেদের প¶পাতহীনতার কথা বললেন, সেটাই ভেবে দেখার বিষয়! বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাতাসে তারা নিশ্চয়ই পরিবর্তনের এমন গন্ধ পেয়েছেন, যা তাকে এ কথা বলতে প্ররোচিত করেছে। এটা শুধু প্রণব মুখার্জির ব্যক্তিগত মত মনে করার কারণ নেই। ভারত সরকারের মুখপাত্র হিসেবেই তিনি এ কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ এবং তাদের মহাজোটের পা-চাটাদের জন্য এটা যে সুখের বার্তাবহ নয়, তা বলাই বাহুল্য।
কিন্তু বিপদ শুধু এখানেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন একই সময়ে ঢাকা সফরে এসে যা বলেছেন এবং তাদের পররাষ্ট্র দফতর থেকে বাংলাদেশের ওপর যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে এখানকার দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী সরকার কর্তৃক যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার কঠোর সমালোচনা আছে। হিলারি ঢাকা এসে তাদের পরম প্রিয়পাত্র ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের জনগণের কাছে তার লুপ্তপ্রায় ভাবমূর্তি চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন। ইউনূসকে নিয়ে তাদের বড়ই দুঃখ। বেচারাকে তারা বাংলাদেশে গুর“ত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভ‚মিকা পালন করার জন্য তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ইউনূস নিজেই ২০০৭ সালে নিজের যোগ্যতার তুলনায় বেশি উৎসাহিত হয়ে তড়িঘড়ি করে দল গঠন করে ¶মতার সিংহাসনে আরোহণের জন্য যে তৎপরতা দেখিয়েছিলেন সেটা মাঠে মারা যাওয়ায় তারা ইউনূসকে নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েন। এখন আওয়ামী লীগের বিপর্য¯— অবস্থায় তারা আবার ইউনূসের ভাবমূর্তি চাঙ্গা করার জন্য ব্য¯— হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নিজেদের নোংরা ¯^ার্থে ইউনূসের বির“দ্ধে যাই করার চেষ্টা কর“ক, তার বিশেষ কোন গুর“ত্ব নেই। কারণ দেশের গরিবদের কাছে, গ্রামাঞ্চলের ব্যাপক জনগণের কাছে, বাংলাদেশের সচেতন মধ্যবিত্তের কাছে ইউনূসের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বলে কিছু নেই। কাজেই যা নেই, সেটা দিয়ে কোন রাজনৈতিক দাবা খেলার কোন সুফল সাম্রাজ্যবাদীদের ¶েত্রে হওয়ার কথা নয়।
ইউনূসের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে এখানে যা বলা দরকার তা হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক প্রয়োজনে হাসিল এখন আর ব্যবহারযোগ্য নেই। কেউ ব্যবহারযোগ্য না হলে সাম্রাজ্যবাদীরা বিশেষত আমেরিকানরা যে তাকে ছুড়ে ফেলে দিতে এতটুকুও দ্বিধাবোধ ও বিলম্ব করে না, এটা সাধারণ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ব্যাপার। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন হাসিনাকে কোনভাবে সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়ে ও তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদির মাধ্যমে যে অরাজকতা তৈরি করেছে, সে পরিস্থিতিতে এই সরকারকে আগের মতো সমর্থন দিতে আর প্রস্তুত নয়।
গুম, খুন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা, মিটিং-মিছিলের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং পুলিশ, র‌্যাব, বর্ডার গার্ড ইত্যাদি সশস্ত্র বাহিনীকে বিরোধী রাজনৈতিক দমনে, বিশেষত বিএনপির ওপর হামলা চালানো বন্ধ করার কোন সম্ভাবনা না দেখে, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্র“ত ও ভয়াবহ অবনতি দেখেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশে তার সাম্রাজ্যবাদী লাইন নতুনভাবে গোছানোর জন্য তৈরি হয়েছে। ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত যেভাবে এখন কথা বলছেন, এভাবে তাদের জন্য কোন রাষ্ট্রদূতকে প্রকাশ্যে কোন বিদ্যমান সরকারের এত সমালোচনা করতে আগে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে হিলারি ক্লিনটন ঢাকা সফর করে ফিরে যাওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর তাদের যে রিপোর্ট দিয়েছে তা খুবই অর্থপূর্ণ।
এখানে মিটিং-মিছিল করতে দেয়া হচ্ছে না, সরকার বাক ¯^াধীনতা দমন করছে, এসব সমালোচনা বাংলাদেশের ¶েত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ব্যাপার। কারণ এরা তো এ দেশে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে এটা করছে না। কিন্তু তবু কেন তারা এখন এটা করছে, এটাই এক গুর“ত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা। এই জিজ্ঞাসার জবাব মিলতে পারে যদি আমরা বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে এটা বুঝি যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের যে শুধু কোন সম্ভাবনা নেই তা নয়, এবার মনে হয় আওয়ামী লীগ দলটিও প্রায় উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এদের শাসনে শুধু দেশের মানুষই অতিষ্ঠ হয়ে আছে তাই নয়, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ইত্যাদি সাম্রাজ্যবাদীরাও এই দলটির শাসন সহ্য করার মতো অবস্থায় আর নেই।
এ প্রসঙ্গে আজ ২৬ মে লন্ডনের সাপ্তাহিক ইকোনমিস্টের দুটি প্রবন্ধ খুব উলে­খযোগ্য। এর একটির নাম ‘বাংলাদেশের বিষাক্ত রাজনীতি : হ্যালো বাংলাদেশ’। দ্বিতীয়টির নাম ‘বাংলাদেশের রাজনীতি : উচ্চকণ্ঠ, চিৎকার’। প্রথম প্রবন্ধটির সাব-হেডিং আবার হল, ‘হাসিনা কর্তৃক বাংলাদেশকে ধ্বংস করা থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব এখন ভারতের’। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি এবং দ্ব›দ্ব-সংঘর্ষ বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জীবনকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এ কথা বলে দুটি প্রবন্ধেই বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে অপহরণ, গুম, খুন, দুর্নীতি, লুটতরাজ ইত্যাদি বিষয়ে বলা হয়েছে। এই সঙ্গে বলা হয়েছে যে, ২০০১-২০০৬ পর্যš— বিএনপির শাসন ছিল বর্বরোচিত। দুর্নীতি, ঠগবাজি, সন্ত্রাস ইত্যাদি ¶েত্রে তাদেরও কীর্তিকলাপ আছে। কিন্তু বিএনপি সম্পর্কে এসব কথা বললেও ইকনোমিস্টের এ প্রবন্ধ দুটি আওয়ামী লীগের কার্যকলাপের সমালোচনাতেই মুখর। জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি, রাজনৈতিক নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি সম্পর্কে বলতে গিয়ে সভা-সমিতি, মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও হামলা, বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের বির“দ্ধে মামলা ও তাদের জেলে পাঠানো, ইলিয়াস আলী অপহরণ ও সম্ভাব্য হত্যা, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের অপহরণ ও হত্যা, সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যা এবং তার সঙ্গে সর্বোপরি উচ্চ মহলের দুর্নীতির সম্পর্ক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের দুর্নীতি এবং সে দুর্নীতির প্রহসনমূলক বিভাগীয় তদš— ইত্যাদি বিষয় এ প্রবন্ধ দুটিতে বেশ ফলাও করে বলা হয়েছে।
প্রথম প্রবন্ধটিতে ভারতকে হাসিনার অভিভাবক বা মালিক হিসেবে ধরে নিয়ে যেভাবে ভারতকে চেষ্টা করতে বলা হয়েছে হাসিনাকে সংযত করতে, এটা থেকে বোঝা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের থেকে ভারতের সঙ্গেই হাসিনার সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ বলে মনে করে। এটা হতেই পারে। কারণ ১৯৭৫ সালের পর হাসিনা বেশ কয়েক বছর ভারত কর্তৃক প্রতিপালিত হয়েছিলেন এবং সেখানকার বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তার যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ভারতও যে মার্কিন সরকার কথিত ভ‚মিকা হাসিনাকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পালন করতে পারছে না, এটা প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরকালীন কথাবার্তা থেকে স্পষ্ট। কাজেই কার্যত দেখা যাচ্ছে, একদিকে নিজের দলীয় লোকজন ও তাদের ঘরানার কিছু বুদ্ধিজীবী এবং মহাজোটের কিছু চাটুকার নেতা পরিবৃত শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের থেকে এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। ভোটের বাজারে তার ভয়ানক দরপতন ইতিমধ্যেই হয়েছে। ভবিষ্যতে এ অবস্থা আরও খারাপ হয়ে এমন দাঁড়াবে যে, আগামী নির্বাচনে ১৫-২০টির বেশি আসন লাভ করাও কষ্টকর হবে। অন্যদিকে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী মুরব্বি ও পৃষ্ঠপোষকরাও এখন তাদের থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ব্যর্থ নেতৃত্বের অধীন আওয়ামী লীগ দল ও আওয়ামী লীগ সরকার এখন উচ্ছন্নে যাওয়ার পথে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের আকাশকে যে ঘোর কালো মেঘ আচ্ছন্ন করেছে, সে মেঘ অদূর ভবিষ্যতেই এক প্রলয়ংকর তুফান তুলে বাংলাদেশের মাটি থেকে তাদের উড়িয়ে দেবে।
২৬-০৫-২০১২

সোমবার, ২১ মে, ২০১২

ধানের মূল্য ও শ্রমজীবীর মজুরির একই অবস্থা


 বদরুদ্দীন উমর
এই মৌসুমে বোরো ধানের মূল্য না পেয়ে কৃষকরা কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন সে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলার প্রয়োজন হলো। কারণ এসবই প্রাসঙ্গিক কথা। বাংলাদেশে গরিবের শ্রমের যদি কোনো মর্যাদা থাকত তাহলে কৃষকরা যেমন ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতেন, তেমনি কারখানা শ্রমিকরা পেতেন মনুষ্যোচিত মজুরি এবং বিদেশে কার্যরত শ্রমিকদের শ্রমের মর্যাদা ও মূল্য তারা লাভ করতেন। কাজেই এসব ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই। এই অখণ্ড অর্থনীতিতে কোনো ধরনের শ্রমজীবীদেরই স্বার্থ দেখা ও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা আজ নেই'

কৃষিপণ্য বাজারে ফড়িয়াদের উৎপাত ও লুটপাট কোনো নতুন ব্যাপার নয়। খোদ কৃষকরা, বিশেষত ভূমিহীনরা ভূমি মালিক ও মহাজনদের শোষণের শিকার। কিন্তু সর্বস্তরের কৃষকরা খুব বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের দ্বারা। সব রকম অসুবিধার মধ্য দিয়ে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করার পর সেটা বিক্রির সময় পড়েন ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের খপ্পরে। এটা যদি না হতো তা হলে কৃষকদের অবস্থা এত শোচনীয় হতো না। এই মুহূর্তে বোরো ধান নিয়ে কৃষকরা এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। সরকার নিজে বোরো ধান ক্রয়ের দর নির্ধারণ করেছে মণপ্রতি ৭২০ টাকা। কিন্তু ফড়িয়াদের পাতা জালে আটকা পড়ে কৃষকরা গ্রামের বাজারে এই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ৪২৫ থেকে ৪৪০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ সরকার যা নির্ধারণ করেছে তার প্রায় অর্ধেক দরে! এর ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি ও খরচ খরচার পর লাভ তো দূরের কথা কৃষকরা এমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন যার ধাক্কা সামলে ওঠা তাদের পক্ষে এক অসহনীয় ব্যাপার। সরকার ইচ্ছা করলেই ধানের বাজারের ওপর ফড়িয়াদের এই নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। এটা দু'ভাবে হতে পারে। প্রথমত, সরকার কর্তৃক নিজে ফসল, এ ক্ষেত্রে ধান কেনা। দ্বিতীয়ত, সারাদেশে বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করে সরকারের তদারকিতে ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে ফড়িয়াদের বাজার থেকে তাড়িয়ে দিয়ে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
কৃষকরা বোরো ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া তো দূরের কথা। অনেকে এখন বাধ্য হয়ে অতি কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধানের ন্যায্যমূল্যের জন্য আন্দোলন হচ্ছে। শুধু ফড়িয়াদের উৎপাত ও লুটপাটের বিরুদ্ধেই যে তারা আন্দোলন করছেন তাই নয়, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের পরিবর্তে তারা মণপ্রতি ৮৫০ টাকা করার দাবিও করছেন। কিন্তু এসব আন্দোলন এত বিচ্ছিন্নভাবে হচ্ছে এবং এর সাংগঠনিক শক্তি এত দুর্বল যে ফড়িয়ারা তো দূরের কথা, সরকার পর্যন্ত এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছে না।
ধানের ক্ষেত্রে এভাবে বাজারে ফড়িয়াদের যে তৎপরতা চলছে এটা অন্য সব অর্থকরী ফসলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু ধান যেহেতু অন্য সব ফসলের থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের লোকের প্রধান খাদ্য, সে কারণে ধানের বাজার ফড়িয়াদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক বিপজ্জনক ব্যাপার। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে অর্থাৎ মূলত ধানের চাহিদা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এ নিয়ে সরকারও অনেক ঢেঁড়ি পিটিয়ে থাকে। কিন্তু সরকার যতই ঢেঁড়ি পেটাক, এর কৃতিত্ব হচ্ছে কৃষকের, যারা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করেন। তাদের এই খাটুনির কথা অনেক সরকারি লোকজন বললেও তাদের এই খাটুনির উপযুক্ত মূল্য দেওয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি ও কর্মসূচি নেই। কাজেই ধান ক্রয় ক্ষেত্রে যেমন থাকে টিলেঢালা অবস্থা, তেমনি ফড়িয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে থাকে তাদের পরিপূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা।
বাংলাদেশে এখন দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা সব ক্ষেত্রেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা নানা ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে খাদ্যবাজার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই নিয়ন্ত্রণ এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যাতে প্রতিদিনই সব রকম খাদ্যবস্তুর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু এ ক্ষেত্রে কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ নেই, সে কারণে বাংলাদেশ এখন পরিণত হয়েছে বিক্রেতাদের বাজারে (ঝবষষবৎং সধৎশবঃ)। এখানে ক্রেতাদের দরদস্তুর করারও কোনো সুযোগ নেই। বিক্রেতাদের হাতে তারা জিম্মি।
বলাই বাহুল্য যে, এসব সিন্ডিকেটওয়ালা হলো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। শুধু তাই নয়, শীর্ষস্থানীয় সরকারি লোকেরা অনেকে বেনামিতে এই কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাছ, গোস্ত, সবজি, ডাল, মসলা সব রকম খাদ্যসামগ্রী এভাবে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের কোনো ব্যাপার নেই। সরকারি মহলে এ রকম কোনো চিন্তাভাবনার কথাও শোনা যায় না। কাজেই সারাদেশে যেখানে যা উৎপাদিত হচ্ছে তার ওপর উৎপাদকের নয়, ফড়িয়া ব্যবসায়ী এবং অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থাপিত হয়েছে।
এখন মাঠে বোরো ধান উঠেছে এবং বিক্রির জন্য কৃষকরা তা বাজারে নিচ্ছেন। কিন্তু তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে সর্বনাশের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। এর ওপর সংবাদপত্রেও কিছু কিছু রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু একদিকে সরকারের সচেতন উদাসীনতা এবং অন্যদিকে দেশে কোনো শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন না থাকায় কৃষকরা নিদারুণ পরিশ্রম সত্ত্বেও কোনো ফসলেরই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষক শ্রমিকরাই সচল রেখেছেন। কিন্তু এই শ্রমজীবীদের স্বার্থই আজ সব থেকে বেশি উপেক্ষিত। কৃষকরা কৃষিক্ষেত্রে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি উৎপাদন সামগ্রীর অভাবে অথবা বেশি দাম দিতে বাধ্য হয়ে এবং হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এমনকি জমিতে নিজেরা যে পরিশ্রম করছেন তার বিশেষ কোনো মূল্যও তারা পাচ্ছেন না। কিন্তু তারা যা উৎপাদন করছেন তার থেকে বিরাট আকারে উদ্বৃত্ত অপহরণ করে ভূমি মালিক, মহাজন, ফড়িয়া ব্যবসায়ী, লুটপাটকারী সরকারি লোকজন নিজেদের পকেট ভর্তি করছে।
শিল্প শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও শোষণ-লুণ্ঠন একইভাবে চলছে। বাংলাদেশে শ্রমিকের মজুরি বিশ্বের অন্যান্য দেশের শ্রমিক মজুরি থেকে কম। এই সস্তা শ্রমশক্তির কারণে আন্তর্জাতিক পুঁজি বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এখানে গার্মেন্ট শিল্পের রমরমা অবস্থার এটাই মূল কারণ। কিন্তু শুধু দেশে নিযুক্ত শ্রমিকরাই নন, বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। তারা বাংলাদেশে বছরে ১২ বিলিয়ন বা ১২শ' কোটি ডলার পাঠিয়ে থাকেন। এই বৈদেশিক মুদ্রা যদি বাংলাদেশ না পেত তাহলে এখানকার অর্থনীতি অচল হতো। এ কথা সরকারি মহলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হলেও এই গরিব শ্রমিকরা বিদেশে যেভাবে স্থানীয় সরকার ও মালিকদের দ্বারা নিগৃহীত হন সে ব্যাপারে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো এবং বাংলাদেশ সরকার কোনো দৃষ্টি দেয় না। না দেওয়ারই কথা। কারণ, কৃষক শ্রমিকের ঘাম ও রক্তের কোনো মূল্য বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী ও তাদের কোনো সরকারের কাছে নেই।
এই মৌসুমে বোরো ধানের মূল্য না পেয়ে কৃষকরা কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে সে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলার প্রয়োজন হলো। কারণ এসবই প্রাসঙ্গিক কথা। বাংলাদেশে গরিবের শ্রমের যদি কোনো মর্যাদা থাকত তাহলে কৃষকরা যেমন ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতেন, তেমনি কারখানা শ্রমিকরা পেতেন মনুষ্যোচিত মজুরি এবং বিদেশে কার্যরত শ্রমিকদের শ্রমের মর্যাদা ও মূল্য তারা লাভ করতেন। কাজেই এসব ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই। এই অখণ্ড অর্থনীতিতে কোনো ধরনের শ্রমজীবীদেরই স্বার্থ দেখা ও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা আজ নেই।
২১.৫.২০১২

রবিবার, ২০ মে, ২০১২

ভারতে আন্না হাজাররে অনশন ও র্দুনীতি সমাচার




বদরুদ্দীন উমর
   
রাজনতৈকি প্রতবিাদ ও দাবি আদায়রে পদ্ধতি হসিবেে ভারতে অনশনরে প্রচলন করনে কংগ্রসে নতো গান্ধী। সইে থকেে অনশনকে আন্দোলনরে হাতয়িার হসিবেে অনকেইে অনকে সময় ব্যবহার করে আসছনে। গান্ধীবাদী সমাজর্কমী আন্না হাজারে ভারত থকেে র্দুনীতি নর্মিূল করার উদ্দশ্যেে সরকারকে লোকপাল বলি পাস করতে বাধ্য করার জন্য আমরণ অনশন করনে। 


র্বতমান বশ্বিে র্সবপ্রধান র্দুনীতগ্রিস্ত দশেগুলোর অন্যতম হচ্ছে ভারত। বশ্বিরে এই 'বৃহত্তম গণতান্ত্রকি' দশেে গণতান্ত্রকি ব্যবস্থার প্রকৃত চরত্রি এর মধ্যে প্রতফিলতি হয়থ এ কথা বললে সত্যরে কোনো অপলাপ হয় না। ভারত একটি বৃহৎ দশেও বট।ে বভিন্নি সূত্র থকেে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডরে ব্যাংকগুলোতে ভারতীয় নাগরকিদরে লাখ লাখ কোটি র্দুনীতলিব্ধ ডলার জমা আছ।ে এদকি দয়িে বশ্বিে ভারতরে স্থান র্সবর্শীষ!ে রাজনীতবিদি, সরকারি আমলা, ব্যবসায়ীদরে হসিাবে সখোনকার ব্যাংকগুলোতে এই র্অথ জমা হয়ছেে ভারতরে শ্রমজীবী কৃষক, শ্রমকি ও মধ্যবত্তিরে রক্ত শোষণ কর,ে তাদরে গরবি থকেে আরও গরবি বানয়ি,ে অভুক্ত-র্অধভুক্ত রখে,ে ভটিমোটি থকেে উচ্ছদে কর,ে তাদরে পকটে মরে।ে রাতারাতি এটা হয়ন।ি র্দীঘদনি ধরে র্দুনীতরি এই প্রক্রয়িা জারি থকেে এখন তা দশেটরি র্সবস্তর,ে বশিষেত শাসকশ্রণেীর র্সবস্তরে ছড়য়িে পড়ে যে পরস্থিতিরি সৃষ্টি করছেে তারই একটা প্রতফিলন অন্য অনকে কছিুসহ আন্না হাজাররে অনশনরে মধ্যওে দখো গলে। অনশন করে ভারতরে মতো এক বরিাট দশেে বা অন্য কোনো দশেে র্দুনীতি নর্মিূল করা বা কময়িে আনা যায়, এটা এক অবাস্তব চন্তিা। যে চন্তিা অবাস্তব তার থকেে প্রসূত র্কমসূচওি যে অবাস্তব ও পরণিামে অর্কাযকর হবে এতে সন্দহে নইে। কন্তিু আন্না হাজাররে এই অনশন ভারতে র্দুনীতি নর্মিূল করা বা কময়িে আনার ক্ষত্রেে কছিু করতে না পারলওে এ র্দুনীতি বষিয়টকিে সামনে আনার ব্যাপারে একটা ভূমকিা পালন করছে।ে এর মাধ্যমে বশ্বিরে র্সববৃহৎ গণতন্ত্র হসিবেে ভারতরে শাসন ব্যবস্থার শোষণমূলক এবং অগণতান্ত্রকি চরত্রিও অনকেখানি উন্মোচতি হয়ছে।ে বারো দনি অনশনরে পর ভারত সরকার ও তাদরে র্পালামন্টে আন্না হাজাররে দওেয়া তনিটি র্শত মনেে নওেয়ার পর তনিি আজ ২৮ আগস্ট সকালে তার অনশন ভঙ্গ করছেনে। অনশন কোনো বপ্লিবী র্কমসূচি তো নয়ই, এর দ্বারা খুব জোর কছিু সংস্কারমূলক দাবি আদায় হতে পার।ে এটা গান্ধীর অনশনরে সময়ওে দখো গছে।ে কন্তিু তা সত্ত্বওে আন্দোলনরে পদ্ধতি হসিবেে অনশনরে একটা ভূমকিা ব্রটিশি আমলে দখো দয়িছেলি। ১৯৪৭ সালরে ১৫ আগস্টরে পর জওয়াহরেলাল নহেরুর কংগ্রসে সরকার পাকস্তিানকে দয়ে নর্ধিারতি র্অথ দতিে অস্বীকার কর।ে এর প্রতবিাদে ও ভারত সরকার র্কতৃক দশে ভাগরে সময় গৃহীত সদ্ধিান্ত অনুযায়ী পাকস্তিানকে দয়ে টাকা পরশিোধ করতে বাধ্য করার উদ্দশ্যেে গান্ধী অনশন করনে এবং নহেরু সরকার পাকস্তিানকে তাদরে প্রাপ্য র্অথ প্রদান করার পর তনিি তার অনশন ভঙ্গ করনে। 


দক্ষণি আফ্রকিা থকেে ভারতে আসার পর ১৯১৪ সালে তনিি প্রথম অনশন করনে। ১৯৪৭ সালরে এ অনশনই ছলি তার জীবনরে শষে অনশন। 
গান্ধী ও তার অনুসারীরা যে অনশন করতনে এবং এখন আন্না হাজাররে মতো গান্ধীবাদী যে অনশন করছেনে তার মধ্যে কোনো ফাঁকি থাকনে।ি এই অনশনরে সময় কউে কউে নরিম্বু (পানি না খয়ে)ে উপবাস করনে। কন্তিু অধকিাংশ ক্ষত্রেইে শরীররে শুষ্কতা (ফবযুফবঃরড়হ) যাতে না ঘটে এ জন্য তারা পানি খয়েে থাকনে। গান্ধী জীবনে অনকেবার অনশন করছেনে এবং কখনও সপ্তাহরে পর সপ্তাহ। এখন আন্না হাজারে বারো দনি অনশনরে পর তা ভঙ্গ করছেনে। কাজইে এই অনশনরে র্কাযকারতিা অল্পবস্তির যাই থাকুক, এটা সহজ কাজ নয় এবং এতে জীবনরে প্রতি ঝুঁকি থাকে অনকে বশে।ি 


বাংলাদশেে এখন খুব ঘন ঘন অনশন হয়। কত রকম ইস্যু নয়িে যে অনশন হয় তারও কোনো ঠকি নইে। কন্তিু দখো যায়, এসব অনশনে কোনো সময়ইে রাত পোহায় না। আগে থকেইে ঘোষণা দওেয়া হয়, সকাল ৮টা বা ১০টা থকেে বকিলে ৪টা বা ৬টা বা ওই ধরনরে ছয় ঘণ্টা, আট ঘণ্টা অনশনরে! র্অথাৎ সকালে বশে ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করে প্রসে ক্লাবরে সামন,ে জাতীয় জাদুঘররে সামন,ে পুরানা পল্টন,ে মুক্তাঙ্গনে অথবা ওই রকম কোনো জুতসই জায়গায় শতরঞ্জি বছিয়ি,ে শাময়িানা টাঙয়িে এসব অনশন হয়! র্অথাৎ রমজানরে সময় ভোর রাতে খয়েে পরদনি সন্ধ্যা র্পযন্ত রোজাদাররা এক মাস ধরে যভোবে দনিে উপোস থাকনে সে রকম কছিুও এই তথাকথতি অনশনগুলোতে দখো যায় না! অনশনকারীরা দব্যিি খাওয়া-দাওয়া করে মজলসিে বসে আড্ডা দয়িে অনশন পালন করনে! ফলে দখো যায়, গান্ধী ও গান্ধীবাদীদরে অনশনরে যে র্কাযকারতিা ছলি বা এখনও আছ,ে যা এখন আন্না হাজাররে বারো দনিরে অনশনরে মাধ্যমে নতুন করে দখো গলে, তার তলিমাত্র বাংলাদশেি রাজনীতবিদি ও মানবাধকিার র্কমীদরে অনশনরে মধ্যে দখো যায় না। তবে সংবাদপত্রে এর সচত্রি রপর্িোট ছাপা হয় এবং এর মাধ্যমে অনশনকারীরা একটা প্রচার লাভ করনে। কন্তিু প্রচার লাভ করলওে যে ইস্যুতে তারা অনশন করনে সে ইস্যুর কোনো সুরাহা এই ধরনরে অনশনরে মাধ্যমে হয় না। এর কারণ, যভোবে এসব অনশন পালন করা হয় তাতে সংস্কারবাদীরা যভোবে একে ব্যবহার করে এসছেনে তাকে ব্যঙ্গ করা ছাড়া আর কছিুই হয় না। এর মধ্যে কোনো শক্তি থাকে না। অনশনরে ভণ্ডামপর্িূণ ব্যবহাররে মাধ্যমে সংগ্রামরে পদ্ধতি হসিবেে একে ভোঁতা ও হাস্যকর ব্যাপারে পরণিত করা হয়। বলাই বাহুল্য, স্বাধীন বাংলাদশেরে শাসকশ্রণেী ও তাদরে সহযোগী মধ্যশ্রণেীভুক্ত লোকজন এখন যে চারত্রিকি বশৈষ্ট্যি র্অজন করছেনে, তার সঙ্গে অনশন নয়িে এ ভণ্ডামি খুবই সঙ্গতপর্িূণ। শুধু অনশনই নয়, এখন র্ধমঘট ও হরতালরে অবস্থাও একই প্রকার। র্ধমঘট ও হরতাল জনগণরে এক গুরুত্বর্পূণ রাজনতৈকি অধকিার এবং সংগ্রামরে এক র্কাযকর হাতয়িার। কন্তিু বাংলাদশেে কারণ-েঅকারণ,ে অতি তুচ্ছ থকেে নয়িে অনকে নর্বিোধ লক্ষ্য সামনে রখে,ে বভিন্নি চক্ররে র্স্বাথে যভোবে কথায় কথায় হরতাল ও র্ধমঘটরে আহ্বান জানানো হয় ও হরতাল পালতি হয়, তাতে হরতালরে বা র্ধমঘটরে আর কোনো ধার, শক্তি বা র্কাযকারতিা থাকে না। কাজইে এসব হরতালকে বুড়ো আঙুল দখেয়িে সরকার তার নানাবধি গণবরিোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখতে অসুবধিা বোধ করে না। বাংলাদশেে র্সবক্ষত্রেে র্দুনীতি যভোবে ছয়েে গছেে এটা সকলরেই জানা। ওপরে অনশন ও হরতাল-র্ধমঘট সর্ম্পকে যা বলা হলো সটো র্দুনীতগ্রিস্ত রাজনতৈকি লোকদরে অসৎ রাজনতৈকি আচরণরে অন্যতম দৃষ্টান্ত। 


ভারতে র্দুনীতি দমনরে জন্য আন্না হাজাররে অনশনরে প্রসঙ্গে ফরিে এসে দখো যায়, এক্ষত্রেে অনশনরে একটা র্কাযকারতিা থাকলওে যে উদ্দশ্যেে অনশন করা হয়ছেে সে উদ্দশ্যে এর মাধ্যমে র্অজনরে সম্ভাবনা নইে বললইে চল।ে যে তনি র্শত পূরণরে পর আন্না তার অনশন প্রত্যাহার করছেনে সগেুলো হলো, প্রধানমন্ত্রী থকেে নয়িে নম্নিস্তররে আমলাদরে লোকপাল আইনরে আওতায় আনা, প্রত্যকে রাজ্যে স্বাধীন র্দুনীতি দমন সংস্থা 'লোকযুক্ত' গঠন এবং একটি নাগরকি সনদ গঠন। সরকার ও র্পালামন্টেরে দুই কক্ষরে সদস্যদরে মধ্যে অনকে আলোচনা ও বর্তিকরে পর অবশষেে র্সবসম্মতক্রিমে আন্নার দাবি মনেে নয়িে র্পালামন্টেে প্রস্তাব পাসরে পর আন্না র্কতৃক অনশন ভঙ্গরে ঘটনার মধ্য দয়িে একদকিে যমেন ভারতরে শাসকশ্রণেীর কৗেশলজ্ঞান ও রাজনতৈকি পরপিকস্ফতার (ঢ়ড়ষরঃরপধষ সধঃঁৎরঃু) পরচিয় পাওয়া যায়, তমেনি অন্যদকিে পরচিয় পাওয়া যায় তাদরে সুবধিাবাদ এবং অসাধুতার। কারণ এই বলি পাস করা, না করার দ্বারা ভারতে র্দুনীতি দমন যে সম্ভবত সম্ভব নয় এটা কংগ্রসে নতেৃত্বাধীন কোয়ালশিন সরকার যমেন জান,ে তমেনি জানে বজিপেি এবং তাদরে চক্ররে বভিন্নি গরেুয়া র্পাট।ি শাসকশ্রণেীর এসব অংশই প্রবলভাবে র্দুনীতগ্রিস্ত। 


এদরে মধ্যে যারাই সরকার গঠন করে তারাই নজিরো র্দুনীতি করে এবং র্দুনীতবিাজদরে বরিুদ্ধে কোনো র্কাযকর পদক্ষপে না নয়িে তাদরে রক্ষা ও লালন কর।ে কাজইে আন্না হাজাররে আন্দোলনরে পছেনে থকেে বজিপেি যতই তাতে শক্তরি জোগান দকি তারা জানে য,ে এর দ্বারা কংগ্রসে সরকারকে রাজনতৈকিভাবে বড়িম্বতি করা গলেওে র্দুনীতি দমন তো দূররে কথা, কময়িে আনাও সম্ভব নয়। 


ভারতে র্দুনীতি সরকারি ও বসেরকারি র্কমক্ষত্রে,ে সমাজরে বভিন্নি ক্ষত্রেে যভোবে ছড়য়িে পড়ছেে তাতে কোনো আইনরে দ্বারাই তা নর্মিূল, দমন বা হ্রাস করা যায় না। এর বরিুদ্ধে সমাজে যে চতেনা সৃষ্টি ও সঞ্চার করা অপরহর্িায সটো সম্ভব একমাত্র দশেব্যাপী গণতান্ত্রকি ও বপ্লিবী আন্দোলনরে মাধ্যম,ে জনগণরে শক্তকিে জাগ্রত ও সংগঠতি কর।ে কাজইে এ সমস্যা আইনরে মধ্যমে অথবা কোনো সংস্কারমূলক আন্দোলনরে মাধ্যমওে সমাধান হওয়ার নয়। কাজইে লোকপালরে আওতায় প্রধানমন্ত্রী থকেে সাধারণ র্কমচারীকে অল্প হলওে দখো যাব,ে এর দ্বারা পরস্থিতিরি কোনো উন্নতি হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, যে গণতান্ত্রকি ও বপ্লিবী আন্দোলনরে মাধ্যম জনগণরে শক্তি সংগঠতি করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব তার বকিাশ রুদ্ধ কর,ে বাধাগ্রস্ত করে যারা নজিদেরে শাসন ক্ষমতা টকিয়িে রাখে তারাই হয় র্দুনীতরি জন্মদাতা ও র্দুনীতবিাজদরে রক্ষক। এটা এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার, আন্না হাজাররে লোকপাল আইন প্রয়োগরে ক্ষত্রেওে কোনো ম্যাজকি দখোতে পারে না। ভারতে এমন অজস্র আইন আছে যার ফাঁকফোকর দয়িে র্দুনীতবিাজদরে বরে হয়ে যাওয়ার সুযোগরে অভাব নইে। এ সুযোগ আগওে ব্যবহার করা হয়ছেে এবং লোকপালরে আওতায় প্রধানমন্ত্রী থকেে সাধারণ সরকারি র্কমচারীকে আনা হলওে এই সুযোগরে ব্যবহার বন্ধ হবে না। 


কাজইে আন্না হাজাররে অনশন ও আন্দোলনরে মাধ্যমে আইনরে সংস্কার করে ভারতে র্দুনীতি দমন ও নর্মিূল করা যাব,ে এমনকি উল্লখেযোগ্যভাবে হ্রাস করা যাব,ে এ চন্তিা অবাস্তব। অনকে সমস্যার মতো র্দুনীতি মোকাবলো সমস্যাও হলো এমন এক সমস্যা যার সমাধান রাজনতৈকিভাবে সম্ভব। রাজনতৈকি প্রতক্রিয়িাশীলতা ও জনগণরে সম্পদ অপহরণই যখোনে র্দুনীতরি স্রষ্টা সখোনে একমাত্র জনগণরে নজিস্ব রাজনতৈকি ক্ষমতার ব্যবহার ছাড়া র্দুনীতি দূরীকরণ সম্ভব নয়। রাজনতৈকি সমস্যার সমাধান রাজনীতরি মাধ্যমইে করতে হব।ে কাজইে আন্না হাজাররে অনশন আন্দোলন ভারতে র্দুনীতি বষিয়টকিে গুরুতর সমস্যা হসিবেে সামনে আনতে পার।ে কন্তিু এর সমাধানরে যে পথ দখোয় তা শুধু যে অর্কাযকর তাই নয়, বভ্রিান্তকিরও বট।ে 


এ প্রসঙ্গে অন্য যে কথাটি বলা দরকার তা হলো, র্দুনীতি যে ভারতরে সকল র্কমক্ষত্রেে রল্প্রব্দে রল্প্রব্দে ছয়েে আছে এ বষিয়ে জনগণকে সচতেন করার জন্য আন্দোলনরে কোনো প্রকৃত প্রয়োজন নইে। এদকি দয়িে আন্না হাজাররে আন্দোলন সমস্যাটকিে সাময়কিভাবে সামনে আনলওে এর মধ্যে র্দুনীতরি সমস্যা সমাধানরে কোনো পথ নইে। উপরন্তু এক্ষত্রেে সমাধানরে পথ সর্ম্পকে বভ্রিান্তি সৃষ্টি কর,ে এর রাজনতৈকি চরত্রি আড়াল করে আন্না হাজাররে আন্দোলন র্দুনীতি দমন ও নর্মিূলরে পরর্বিতে একে জইিয়ে রাখার র্শতগুলো টকিয়িে রাখার পক্ষইে পরোক্ষভাবে কাজ করছ।ে 
[সূত্রঃ সমকাল, ৩০/০৮/১১]

শনিবার, ১৯ মে, ২০১২

বেসরকারি প্রাথমিক শি¶কদের অনশন




ব দ র“ দ্দী ন উ ম র
রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শি¶করা ১৭ মে তাদের চার দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। এই সঙ্গে তারা ঘোষণা করেছেন তাদের পরবর্তী কর্মসূচি। আগামী ৩১ মে’র মধ্যে তাদের প্রধান দাবি বেসরকারি স্কুলগুলোর জাতীয়করণ যদি না করা হয়, তাহলে ১৬ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অর্থাৎ তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যš— তারা দেশের ২৪ হাজার স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেবেন। এই ধর্মঘট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন প্রায় ১ লাখ শি¶ক।
২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল যে, তারা ¶মতায় গেলে বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলো জাতীয়করণ করবে। কার্য¶েত্রে যাই হোক, প্রতিশ্র“তির ব্যাপারে আওয়ামী লীগ যে অসাধারণ উদার এটা সবারই জানা। বিগত নির্বাচনে বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের শি¶কদের দেয়া প্রতিশ্র“তি তারা আজ পর্যš— র¶া করেনি। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে কোন আগ্রহই তাদের এখন নেই। উপরন্তু এই জাতীয়করণের তারা ঘোর বিরোধী। কিন্তু কার্য¶েত্রে বিরোধিতা সত্তে¡ও এ ব্যাপারে তাদের আশ্বাসের কমতি নেই। আশ্বাস দেয়ার ব্যাপারে তারা প্রতিশ্র“তি দেয়ার মতোই উদার!
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি প্রত্যš— অঞ্চল থেকে হাজার হাজার প্রাথমিক স্কুল শি¶ক ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান গ্রহণ করে নিজেদের দাবি জানাতে থাকলেও সরকারি কর্তৃপ¶ সেটা ভ্রƒ¶েপ করার প্রয়োজন মনে করেনি। শি¶কদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবি জানালেও তাতে কাজ হয়নি। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর অফিসে তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সা¶াতের ‘আশ্বাস’ দেন। কিন্তু কোন সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা সে ¶েত্রে না হওয়ায় শুধু এ ধরনের আশ্বাসের ওপর আস্থা না রেখে আন্দোলনকারী শি¶করা নিজেদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধাš— নেন। মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর শি¶কদের আস্থা না থাকা যুক্তিসঙ্গত। কারণ এ¶েত্রে তারা ২০০৮ সালে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি র¶া করেননি এবং পরে ২০১০ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের বেতন বৈষম্য দূর করার যে প্রতিশ্র“তি ঘোষণা করেছিলেন, সে অনুযায়ী কিছু কাজ হয়নি। বেসরকারি স্কুল শি¶কদের অবস্থা অপরিবর্তিত আছে।
গত ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর প্রাথমিক শি¶করা এই সরকারের আমলে প্রথমবার শহীদ মিনারে অবস্থান গ্রহণ করে একই দাবিতে অনশন পর্যš— করেন। তারা গায়ে কেরোসিন দিয়ে আÍাহুতির কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে তা প্রত্যাহার করা হলেও সরকার এ পর্যš— কিছুই করেনি! কাজেই তাদের দ্বিতীয় দফায় এ আন্দোলন আবার করতে হচ্ছে। এই আন্দোলন চলাকালে শি¶করা ১৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশে মিছিল বের করেন। মিছিল শাহবাগের কাছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে শি¶কদের সংঘর্ষ হয়। মিছিলকারীদের গতি রোধ করার জন্য পুলিশ জলকামান থেকে তাদের ওপর গরম পানি ছোড়ে এবং পরে লাঠিচার্জ করে। প্রবীণ শি¶করাও মারধরের শিকার হন। পুলিশের এই হামলায় জামালপুরের এক স্কুলের প্রবীণ শি¶ক আজিজুর রহমান আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
রেজিস্টার্ড বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণের দাবি নতুন নয়। আগের কথা বাদ দিলেও ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচিত সরকারের কাছে এই শি¶করা তাদের স্কুল জাতীয়করণের এবং সরকারি ও বেসরকারি স্কুল শি¶কদের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোন সরকারের আমলেই আজ পর্যš— এ দুই দাবির কোনটিরই বা¯—বায়ন হয়নি। কাজেই দ্বিতীয় দফা আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণার সময় তারা বাধ্য হয়ে আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
প্রাথমিক স্কুলের এই শি¶করা গরিব ছাত্রদের শি¶ক। গরিবদের চিকিৎসার ¶েত্র যেমন, তাদের শি¶া¶েত্রেও তেমনি সরকারের কোন দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। এই শি¶কদের বেতন এত কম যে, তাতে পরিবার-পরিজনসহ জীবনধারণ করা যে কোন লোকের প¶েই কষ্টকর। এ অবস্থায় প্রাথমিক শি¶কদের আÍহত্যার ঘটনাও বিরল নয়। সুস্থ শরীর এবং মোটামুটি দুশ্চিš—ামুক্ত না হলে যে শি¶কদের দ্বারা ছাত্রদের পাঠদান ঠিকমতো হওয়া সম্ভব নয়, এটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ঠিকমতো পাঠদান তো দূরের কথা, অনেক সময় শি¶করা স্কুলে উপস্থিত থাকতেও পারেন না। কারণ স্কুলবেতন থেকে তারা যা পান তার অতিরিক্ত আয় তাদের করতে হয় অন্য কাজ করে এবং সে কাজের জন্যও সময় দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে নিচের স্কুলগুলোতে ছাত্ররা উপযুক্ত শি¶া লাভ থেকে বঞ্চিত হয়। এই ছাত্ররা উপরের ক্লাসে উঠেও এ জন্য আর ভালো করতে পারে না। এসএসসি পরী¶ার সময় প্রত্যেক বছরই দেখা যায়, এই স্কুলগুলোর ফলাফল খুব খারাপ হয়। অনেক স্কুলে পরী¶ায় সব ছাত্রই ফেল করে! বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে বেসরকারি স্কুলগুলোর যে অবস্থা তাতে এটাই ¯^াভাবিক। এগুলোতে শুধু যে শি¶করা উপযুক্ত বেতনের অভাবে তাদের শি¶াদান অনেক ¶েত্রে ঠিকমতো করতে পারেন না তাই নয়, এই স্কুলগুলোর বাড়িঘর বলেও কিছু থাকে না। ভাঙাচোরা ঘরে ক্লাস হয়। সেখানে চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ, ব­াকবোর্ড, বইপত্র কিছুরই ঠিক থাকে না। সরকারি মন্ত্রী থেকে নিয়ে বড় কর্তারা ‘ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ’, ‘দেশের মের“দÊ’ ইত্যাদি অনেক বড় বড় কথা বললেও তাদের মের“দÊ সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণেই ভেঙে পড়ে। 
আগামী ৩১ মে’র মধ্যে সরকার প্রাথমিক শি¶কদের দাবি মেনে নিয়ে রেজিস্টার্ড বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণ এবং সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের বেতন বৈষম্য দূর করবেÑ এটা ভাবার কোন বা¯—বসম্মত কারণ নেই। এ কারণে যে, এই সরকার গরিবদের ভোটে নির্বাচিত হলেও এবং ভাঁওতাবাজি করে গরিবদের অনেক রকম প্রতিশ্র“তি এবং আশ্বাস দিয়ে এলেও, এরা গরিবদের কোন প্রতিনিধি নয়। এদের শাসনের অধীনে চোর, দুর্নীতিবাজ, ডাকাত, প্রতারক এবং লুণ্ঠনজীবীরাই সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছে। অন্যদিকে এই প্রক্রিয়ায় গরিবদের জীবন বেশি করে বিধ্ব¯— ও ধ্বংস হচ্ছে। 
এ অবস্থায় শি¶কদের আন্দোলন যেভাবে হওয়া দরকার, সেভাবে না হওয়ার কারণেই বারবার আন্দোলন সত্তে¡ও তাদের কোন সাফল্য আসে না। আন্দোলনের একপর্যায়ে তারা সরকারি আশ্বাস ইত্যাদির কারণে আন্দোলন বন্ধ করেন। কাজেই দাবি না মানা পর্যš— অনমনীয়ভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলে যে ফল পাওয়ার কথা সে ফল তারা পান না। 
চাকরি যাওয়া এবং অন্যান্য ভয়ের কারণে শি¶করা একটা পর্যায়ের বেশি আন্দোলন চালিয়ে যেতে অ¶ম হওয়ার কারণেই তারা ধনিক শ্রেণীর সরকারের কাছে পরাজিত হন। এ¶েত্রে শি¶ক নেতৃত্বের দুর্বলতাও ল¶ণীয়। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে, শক্তভাবে দাঁড়িয়ে, ১৬ জুন থেকে সব সরকারি শত্র“তার মুখে দাঁড়িয়ে তারা যদি অবিচলিত ও দৃঢ়ভাবে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন, একমাত্র সে ¶েত্রেই তাদের আন্দোলনে সাফল্য আসতে পারে। অন্যথায় তাদের আন্দোলনের পরিণতি আগে যা হয়েছে তার থেকে ভিন্ন হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। 
১৯.০৫.১২